Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রকল্প

১.একটি বাড়ী একটি খামার- প্রকল্প :

 পটভূমিঃ

            মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত বর্তমান সরকার কর্তৃক ঘোষিত ‘‘দিন বদলের সনদ’’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারের অগ্রাধিকারভূক্ত নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচন অন্যতম। নির্বাচনী ইশতেহার এবং রূপকল্প ২০২১ অনুযায়ী ২০১২ সালের মধ্যে দেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ২০১৫ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনাসহ ‘‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’’ গড়ার বিষয়ে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ । এ অঙ্গীকারের আলোকে বর্তমান সরকার স্থানীয় সম্পদ, সময়ও মানব শক্তি/সত্ত্বাকে সর্বোত্তম ব্যবহার তথা জীবিকায়নের মাধ্যমে প্রতিটি বাড়িকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত করতে বদ্ধ পরিকর । সে লক্ষ্যে প্রাথমিক ভাবে দেশের প্রতিটি গ্রামে ৬০ থেকে ১০০ জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন (Village Organization) কে একটি স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘‘একটি বাড়ি একটি খামার’’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে । এজন্য প্রকল্পের আওতাধীন সকল সুফলভোগীদের অংশ গ্রহণের মাধ্যমে ‘‘উঠান বৈঠক’’ কে প্রকল্প বাস্তবায়ন তথা তাদের জীবন ব্যবস্থার নির্বাহের নিমিত্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ।

           বাংলাদেশ হাজারো গ্রামের সমষ্টি । এসব গ্রামের জীব বৈচিত্র এবং ইকোসিস্টেম অত্যান্ত সমৃদ্ধ এবং উৎপাদন সহায়ক । উর্বর ভূমি এবং প্রাণ চাঞ্চাল্যে ভরপুর এসব গ্রামে অনেক দরিদ্র মানুষসহ গ্রামীণ পরিশ্রমী মানুষের বসবাস।পরিশ্রমী এসব মানুষের মাধ্যমে উর্বর বাংলাদেশের সকল গ্রামের সকল বাড়িতে খামার সৃষ্টি করে উৎপাদন অনেক গুণ বৃদ্ধি সম্ভব । শিক্ষা, চাকুরী, ব্যবসা ও অন্যান্য কারণে নগরায়ণ বৃদ্ধি পাচ্ছে । নগরায়নের ফলে Absentee land owner দের সংখ্যা বাড়ছে । তাদের ভূমি ব্যবহারের মাধ্যমে যথাযথ উৎপাদন এবং সংরক্ষণের নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য এবং প্রতি বাড়িকে খামারে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজন গ্রাম সংগঠন, প্রয়োজন গ্রামের মানুষের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সম্পদ তথা পুঁজি সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ । সঞ্চয় বৃদ্ধি এবংস্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনসাধারণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং তা ক্রমান্বয়ে টেকসই করার ব্যবস্থা গ্রহণ। উৎপাদনের বিভিন্নমুখী কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি বিপণন ব্যবস্থা, উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ ও মজুদকরণ সহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা মাঠ পর্যায়ে সৃষ্টি ও তা টেকসই করার প্রয়াসেই একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে ।

প্রকল্প সারসংক্ষপঃ

প্রকল্পের নাম                              : একটি বাড়ি একটি খামার

উদ্যোগী মন্ত্রণালয়/ বিভাগ             :  স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়

বাস্তবায়নকারী সংস্থা                    :  পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ

সহযোগী সংস্থা                            :

                                                    > জেলা প্রশাসক (প্রধান সমন্বয়কারী)

> বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড ( লিড এজেন্সি)

> সমবায় অধিদপ্তর

> বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, কুমিল্লা

> উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া

> পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন

> ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন                               

> জাতি গঠন বিভাগসমূহ

 

কর্মসূচির মেয়াদঃজুলাই’ ২০০৯ হতে জুন’ ২০১৩ পর্যন্ত সরকারী অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। জুলাই’২০১৩ থেকে জুন’২০১৬ পর্যন্ত প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শেষে বিআরডিবি’র  ব্যবস্থাধীন  অথবা একটি স্বতন্ত্র পল্লী উন্নয়ন কর্মসূচি ফাউন্ডেশন হিসেবে বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে।

প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ

লক্ষ্য :

           ‘‘একটি বাড়ি একটি খামার’’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য প্রতিটি পরিবারকে মানব ও অর্থনৈতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই আর্থিক কার্যক্রমেরএকক হিসেব গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে ২০১৫ সালের মধ্যে জাতীয় দারিদ্র ২০%-এ নামিয়ে আনা।

সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সমূহঃ

>   প্রথম পর্যায়ে প্রতি উপজেলার ৩৬টি গ্রাম হিসেবে মোট ১,৭৩৮৮ গ্রামেরদরিদ্র ও অতিদরিদ্র পরিবারকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করা এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সকল (৮৫০০০) গ্রামের ৫১ লক্ষ দরিদ্র/অতিদরিদ্র (প্রতিগ্রামে ৬০টি ) পরিবারসহ সমিতিভূক্ত সকল পরিবারকে গ্রাম সংগঠনের মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

>  ২০১৩ সালের মধ্যে প্রকল্পাধীন সকল গ্রামের প্রতিটি পরিবারকে কৃষি, মৎস্যচাষ, পশুপালন ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে একটি কার্যকর ‘‘খামার বাড়ি’’ হিসেবে গড়ে তোলা।

>  ২০১১ সালের মধ্যে প্রকল্পাধীন প্রতি গ্রাম থেকে ৫ জন করে (কৃষি, পশুপালন, হাঁস-মুরগী পালন,মৎস্য চাষ, বৃক্ষ নার্সারী ও হটিকালচার ট্রেডের প্রতিবিষয়ে একজন) মোট ৮৬,৯৪০ জন সদস্যকে জীবিকাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিয়ে খামার স্বেচ্ছাসেবী গঠন করা এবং অন্যান্য বিষয়ে গ্রামকর্মী সৃজন করা।

>  ২০১২ সালের জুনের মধ্যে ঋণ সহায়তার মাধ্যমে নিজে/ সদস্যদের নিয়ে প্রতিগ্রামে ৫টি করে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষত কর্মীদের বাড়ীতে মোট ৮৬,৯৪০ টিপ্রদর্শণী খামার গড়ে তোলা।

>   বর্ণিত খামার স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় আগামী ২০১৩ সালের মধ্যে সরাসরি উপকারভোগী কমপক্ষ ৯,৫৬,৩৪০ পরিবারসহ গ্রামের অন্যান্য পরিবারে অনুরুপ খামার বা জীবিকাভিত্তিক কার্যক্রম নিশ্চিত করা।

>  ২০১৩ সালের মধ্যে অনিবাসী ভূমি মালিকদের ভূমিসহ গ্রামীণ সকল সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার ও সম্পত্তির মালিকানা নিশ্চিত করা।

>   ২০১৩ সালের মধ্যে প্রকল্প থেকে গ্রাম সংগঠনের অতিদরিদ্র/দরিদ্র সদস্যদের মাসিক সঞ্চয়ের বিপরীতে সমপরিমান কন্ট্রিবিউটরি মাইক্রো সেভিংস প্রদানের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের ব্যক্তি সঞ্চয় বছরে ন্যূনতম ৫,০০০/- টাকায় উন্নীত করা যা ২ বছরে ১০ হাজার এবং ৫ বছরে ৪০ হাজার টাকায় উন্নীত হবে।

>   ব্যক্তি তহবিলে কন্ট্রিবিউটরী অর্থের অতিরিক্ত প্রতিটি সংগঠনকে বছরে তাদের নিজস্ব সঞ্চয়ের সমপরিমান প্রকল্প থেকে মূলধন সহায়তার মাধ্যমে দু’ বছরে মোট ৯,০০,০০০/- টাকা গ্রাম সংগঠন তহবিল গড়ে তোলা।

>   প্রধান কৃষি ফসলের পাশাপাশি আদা, হলুদ, পিঁয়াজ, রসুন, জিরা, মসলা, বিভিন্নফল এবং অন্যান্য অপ্রধান কৃষি ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রতিটি বাড়ীসংশ্লিষ্ট জমি ব্যবহার করা।

>    মাছ চাষের পাশাপাশি গ্রামীণ জনগণের মাধ্যমে অন্যান্য aquatic culture কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা।

>   উপজেলা পর্যায়ে বর্তমান সুবিধা (বিআরডিবি/ বিএডিসি’র গোডাউন ) ব্যবহারকরে একটি করে সমবায়ভিত্তিক বাজার ব্যবস্থাপনা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ(হিমাগারসহ) ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

>   কৃষিজাত পণ্যের সমবায় ভিত্তিতে মার্কেটিং ও প্রক্রিয়াজাত করার বিষয়ে লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহারের কার্যক্রম গ্রহণ করা।

 

 

২.অপ্রধান শস্য উৎপাদন,সংরক্ষণ,প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণ কর্মসুচী (২য় পর্যায়)

 

৩. গুচ্ছ গ্রাম প্রকল্প

 

৪. পল্লী প্রগতী প্রকল্প